গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময় মসলাজাত এ পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৫৯২ টন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় পণ্যটি আমদানি বাড়িয়েছেন তারা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এ বন্দর দিয়ে মোট ১ হাজার ৮১৮ টন জিরা আমদানি হয়েছে, যার মূল্য ৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২২৬ টন, যার মূল্য ছিল ৫২ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী গত সাত মাসে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৫৯২ টন।
ভোমরা বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, ভারতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে জিরার ভালো চাহিদা থাকায় সম্প্রতি আমদানি বেড়েছে। আমদানীকৃত এ জিরা ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
এদিকে বন্দরে আমদানি বাড়লেও সাতক্ষীরার মসলা বাজারে জিরার দাম কমেনি, বরং স্থিতিশীল রয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের মেসার্স সরদার স্টোরে গতকাল আমদানীকৃত ভারতীয় জিরা খুচরা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬৩০-৬৪০ টাকায়। এছাড়া তুরস্কের জিরা ৭৫০-৭৬০ টাকা এবং সিরিয়ার জিরা প্রতি কেজি ৭৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘এক মাস আগেও এসব জিরার দাম একই ছিল। ভোমরা বন্দরে আমদানি বাড়লেও পাইকারি বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে খুচরা বাজারে জিরার দাম স্থিতিশীল রয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, সাধারণত কোনো পণ্যের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসে। তবে জিরার দাম কেন কমছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।